‘ভাষা পরিচ্ছেদঃ গ্রন্থে বিশ্বনাথ ব্যাপ্তির প্রথম লক্ষণটির যে ব্যাখ্যা মুক্তাবলীতে দিয়েছেন তাতে অব্যাপ্তির আশঙ্কা থেকে যাওয়ার তিনি গঙ্গেশ প্রনীত তত্ত্ব চিন্তামনি অনুসরনে ব্যাপ্তির দ্বিতীয় তথা সিদ্ধান্ত লক্ষণ টি প্রনয়ন করেছেন। ব্যাপ্তির প্রথম লক্ষণ দুটি বেধ অনুমানে কিভাবে অব্যাপ্তি দোষ ঘটেছে তা নিম্নে ব্যাখ্যা করা হল-
ব্যাপ্তির প্রথম লক্ষণে অব্যাপ্তির আশঙ্কা:-
“ঘটো জ্ঞেয়ো বাচ্যত্বাৎ”- এই বৈধ অনুমিতি স্থলে পক্ষ ঘটের বাচ্যত্ব হেতুটি সাধ্য জ্ঞেয়ত্ব অনুমান করা হয়েছে। বস্তুতে বাচ্যত্ব হেতুটি সাধ্য ‘জ্ঞেয়ত্ব’ এর সমস্ত অধিকরণে আছে অর্থাৎ যেখানে যেখানে বাচত্ব, আছে সেখানে সেখানে জ্ঞেয়ত্ব আছে।এমন কোনো বাচ্য বস্তু নেই যা জ্ঞেয় নয়। অতএব এখানে হেতু অবয়ব ব্যাপ্তি সিদ্ধ। কিন্তু সেখানে জ্ঞেয়ত্ব নেই, সেখানে বাচ্যত্বও নেই,এই জাতীয় ব্যাতিরেক ব্যাপ্তির দৃষ্টান্ত সম্ভব নয়। কেননা বস্তু জ্ঞেয় না হলে বা জ্ঞানের বিষয় না হলে তার অস্তিত্ব অসিদ্ধ।অতএব ঐ অসিদ্ধ ক্ষেত্রে বাচ্যত্বের অভাব প্রতিপাদন সম্ভব নয়। অর্থাৎ কেবলানয় অনুমিতিতে ব্যাপ্তির ঐ প্রথম লক্ষণ টি সমন্বিত হতে পারে না। ফলে লক্ষণে অব্যাপ্তি দোষ ঘটে।
ব্যাপ্তির প্রথম লক্ষণে দ্বিতীয় অব্যাপ্তির আশঙ্কা:-
“ইদং সত্তাবান জাতে” এ স্থলে অন্বয় ব্যাতিরেক অনুমানে দৃষ্টান্ত প্রদর্শিত হয়েছে। এক্ষেত্রে সাধ্যবত্তা এবং তা দ্রব্য,গুন, কর্মে থাকায় এই তিনটি সত্তারূপ সাধ্যের অধিকরণ ভিন্ন, অধিকরণ সামান্য, বিশেষ, সমবায় যেখানে,হেতুতা বচ্ছেদক সমবায় সম্বন্ধে কোনো কিছুই থাকে না।সেই কারণে ঐ সাধ্য অনধিকরণ সামান্য প্রভৃতিতে জাতির বৃত্তিত্বের অভাব কল্পনা করা বৃথা হওয়ায় ব্যাপ্তির প্রথম লক্ষণে অব্যাপ্তির আশঙ্কা ঘটে।
উপরোক্ত আপত্তি দুটি সাধনের অযোগ্য হওয়ার গ্রন্থ কার পুনরায় ব্যাপ্তির লক্ষণ প্রদান করে বলেছেন-
“অথবা হেতুমণিষ্ঠ বিরহা প্রতিযোগিনা।
সাধ্যেন হেতোরেকাধিকরনং ব্যাপ্তিরুচ্যতে”।।৬৯।।
অর্থাৎ হেতুর অধিকরণে থাকে যে অভাব সেই অভাবের প্রতিযোগী নয় এইরুপ সাধ্যের সঙ্গে হেতুর এক অধিকরণে স্থিতি ব্যাপ্তি। আরোও স্পষ্ট ভাবে বলা যায়- হেতুর অধিকরণে থাকে যে অভাব সেই অভাবের অপ্রীতিযোগী যে সাধ্য সেই সাধ্য হেতুর সঙ্গে একই অধিকরণে থাকাই ব্যাপ্তি। লক্ষণ টিকে একটি বেধ অনুমিতি স্থলে প্রয়োগ এবং একটি অবেধ অনুমিতি স্থলে লক্ষণ টির অপপ্রয়োগ প্রদর্শন করা যেতে পারে।
বৈধ অনুমিতি স্থলে দ্বিতীয় লক্ষণের প্রয়োগ :-
‘পর্বত বহিমান ধূমাত’ এই বৈধ অনুমিতি স্থলে পর্বতরূপ পক্ষে হেতু ধুমের দ্বারা সাধ্য বহির অনুমান করা হয়েছে। লক্ষণানুসারে হেতু ধূমের অধিকরণ পর্বত প্রভৃতিতে ঘট, পট প্রভৃতি যাবতীয় বস্তুর অভাব থাকলেও বহির অভাব নেই। অতএব অনুমানটি সাধ্য বহি হেতুর অধিকরণ স্বরূপ পর্বতে বর্তমান অভাবের প্রতিযোগী নয় ,অপ্রতিযোগী।এই অপ্রীতিযোগী সাধ্য বহির সঙ্গে ধূমের সামান্য ধিকরণ্য বা অধিকরণে অবস্থান সিদ্ধ হওয়ার লক্ষণ টি এই অনুমিতি স্থলে প্রযোজ্য হয়েছে এবং তার যথার্থ তা প্রমানিত হয়েছে।
অবৈধ অনুমিতি স্থলে দ্বিতীয় লক্ষণের অপপ্রয়োগ:-
“পর্বত ধূমবান বহে”- এই অবৈধ অনুমিতি স্থলে হেতু বহির দ্বারা সাধ্য ধূমের অনুমান করা হয়েছে। লক্ষাণানুসারে হেতু বহির অধিকরণ তপ্ত অয়োগোলকে যেমন ঘট,পটের অভাব থাকে তেমনই ধূমেরও অভাব থাকায় আলোচ্য অনুমানে উক্ত সাধ্য ধূম ঐ প্রতিযোগী হয়। অতএব ব্যাপ্তির লক্ষণ এক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় না। সুতরাং ব্যাপ্তির দ্বিতীয় লক্ষণটি অযথার্থ প্রমানিত হয়।
ব্যাপ্তির দ্বিতীয় লক্ষণে অব্যাপ্তির আশঙ্কা:-
“পর্বত বহিমান ধূমাৎ”- এই বৈধ অনুমিতি স্থলে পর্বত রূপে পক্ষে হেতু ধূমের দ্বারা সাধ্য বহির অনুমান করা হয়েছে। লক্ষণানুসারে হেতু ধূমের অধিকরণ রূপে পর্বত গ্রাহ্য হলে সেখানে মহানস স্থিত বহির অভাব আছে। এইভাবে হেতুর যাবতীয় বিশেষ অধিকরণে যাবতীয় বিশেষ বিশেষ বহির অভাব সিদ্ধ হাওয়ায় বহি সামান্যের ও অভাব স্বীকার করে নিতে হবে,যে অভাবের প্রতিযোগী সামান্য বহি সয়্। কেননা সামান্যের অর্থ যাবতীয় বিশেষের সমষ্টি। অতএব হেতুর অধিকরণ পর্বতে অবস্থিত অভাবের অপ্রতিযোগী বহির সঙ্গে ধূমের সামানাধিকরন্যে সিদ্ধ না হওয়ায় লক্ষণ টি সঙ্গতে হয় না।
উভয়া ভাব দোষ সমাধানে বলা যেতে পারে হেতুর অধিকরণ পর্বতে অবস্থিত যাবতীয় অভাবের অপ্রতিযোগী পর্বত স্থিত বহির সঙ্গে পর্বত স্থিত ধূমের সামনাধিকরন্য সিদ্ধ হওয়ায় ব্যাপ্তির লক্ষণটি সঙ্গত, এই সমাধান ও স্বীকার্য নয়। ব্যাখ্যা করে বলা যায় হেতুর অধিকরণ পর্বতে পর্বত স্থিত বহির অভাব না থাকলেও পর্বত স্থিত বহি এবং ঘট এই উভয়ের অভাব আছে। যার প্রতিযোগী রূপে উভয়ের অভাব আছে, বস্তুতে একটি বস্তু থাকলেও দুটি বস্তু একত্রে নেই। এই উপলব্ধি সবারই হয়। অতএব হেতু ধূমের অধিকরণ পর্বতে যাবতীয় বহির উভয়ভাব প্রতিযোগীত্ব সিদ্ধ হওয়ায় হেতুর অধিকরণে বৃত্তি অভাবের অপ্রতিযোগী সাধ্যের সঙ্গে হেতুর সামান্যধিকরন্য রূপ ব্যাপ্তি সম্ভব হয় না।
“গুনবাষ দ্রব্যত্বাৎ” – নিম্নোক্ত বেধ অনুমিতি স্থলে ও ব্যাপ্তির দ্বিতীয়, লক্ষণে অব্যাপ্তি দোষ অব্যাহত থাকে।কারণ উক্ত বেধ অনুমিতি স্থলে হেতু দ্রব্যত্বের অধিকরণ রূপে যাবতীয় দ্রব্য স্বীকার্য। অর্থাৎ যে কোনো দ্রব্যকেই হেতুর অধিকরণরূপে স্বীকার করা যায়। অতএব নীলঘটকে যদি হেত্বাধিকরণ রূপে স্বীকার করা হয় তাহলে সেখানে পিতরূপ না থাকায় সাধ্য গুণ হেতুর অধিকরণে বৃত্তির অভাবে প্রতিযোগী হয়ে যায়। আবার পীত ঘট হেত্বাধিকরণ রূপে গৃহীত হলে সেখানে নীল রূপের অভাব থাকায় সেখানেও সাধ্যগুণ ঐ অভাবের প্রতিযোগী হয়। এইভাবে সমস্ত দ্রব্যেই কোনো না কোনো গুণের অভাব প্রতিপাদন করে হেত্বাধিকরণ দ্রব্যে সাধ্য গুনের অভাব প্রতিযোগত্ব অনিবার্য হয়ে পড়ে এবং লক্ষণটিতে অব্যাপ্তি দোষের আশঙ্কা দেখা যায়।
উপরোক্ত আশঙ্কার সমাধানে বিশ্বনাথ বলেছেন ব্যাপ্তির লক্ষণটিকে সামান্য ভিন্নভাবে উপস্থাপিত করা যেতে পারে। (হেত্বাধিকরণ নিষ্ঠ অভাবের প্রতিযোগিতা বচ্ছেদক নয় এমন সাধ্য অবচ্ছেদকের দ্বারা অবচ্ছিন্ন সাধ্যের সঙ্গে হেতু সামনাধিকরন্য কে ব্যাপ্তির লক্ষণ স্বীকার করতে হবে।) আলোচ্য অনুমতি স্থলে হেতু দ্রব্যত্তের অধিকরণ দ্রব্য নীল,পীত প্রভৃতি রূপের অভাব থাকায় হেত্বাধিকরণ বৃত্তি অত্যন্ডা ভাবের প্রতিযোগিতা বচ্ছেদক হয় নীলত্ব,পীতত্ব প্রভৃতি। কিন্তু সাধ্যতা বচ্ছেদক ‘গুনত্ব’এই অভাবের প্রতিযোগিতা বচ্চেদক হয় না। কারণ ‘দ্রব্যত্ব’ হেতুর অধিকরণ দ্রব্যে কোনো না কোন গুণ থাকবেই। অতএব (হেত্বাধিকরণ বৃত্তি অত্যন্ডা ভাবের প্রতিযোগিতা বচ্ছেদক ভিন্ন যে সাধ্যতা বচ্ছেদক ‘গুনত্ব’ তার দ্বারা অবচ্ছিন্ন সাধ্যে গুনের সঙ্গে হেতু ‘দ্রব্যত্বের’ সামানাধিকরণ সিদ্ধ হওয়ায় অব্যাপ্তির আশঙ্কা অমূলক।
ব্যাপ্তির দ্বিতীয় লক্ষণে ‘রূপত্ব ব্যাপ্য……’ ইত্যাদি অনুমান স্থলে অব্যাপ্তি আশঙ্কা ও তার সমাধান।
“ঘট রূপত্ব ব্যাপ্যজাতিমদান পৃথিবীত্বাৎ”- উপরোক্ত বেধ অনুমান স্থলে পৃথিবীত্ব হেতুর দ্বারা হট রূপ পক্ষে রূপত্ব ব্যাপ্য জাতি বিশিষ্ট রূপ সাধ্যের অনুমান করা হয়েছে। ব্যক্তির দ্বিতীয় লক্ষাণানুসারে হেতুর অধিকরণে স্থিত অভাবের প্রতিযোগিতা বচ্ছেদক ভিন্ন সাধ্যতা বচ্ছেদকের দ্বারা অবচ্ছিন্ন সাধ্য এবং হেতুর সামানাধিকণ্যই ব্যাপ্তি। আলোচ্য স্থলে রূপত্ব ব্যাপ্য জাতি = নীলত্ব,পীতত্ব,শুক্লত্ব, রক্তত্ব আদি সাতটি জাতি। সুতরাং রূপত্ব ব্যাপ্য জাতি মান বা রূপত্ব ব্যাপ্ত জাতি বিশিষ্ট হল নীল,পীত, শুক্ল প্রভৃতি সাতটি রূপ। সুতরাং এই অনুমান স্থলে সাধ্য = রূপত্ব ব্যাপ্য জাতি অর্থাৎ নীলত্ব, পীতত্ব,শুক্লত্ব আদি সাতটি জাতি।
ব্যাপ্তির দ্বিতীয় লক্ষণানুসারে পৃথিবীত্ব হেতু হওয়ায় তার অধিকরণ পৃথিবী এবং পৃথিবীর পরিবর্তে নীল ঘটকেও ঐ অধিকরণ রূপে গ্রহণ করা যেতে পারে, যেখানে ‘পীত’এর অভাব আছে। আবার পীত ঘটে ‘নীলে’ এর অভাব থাকায় চালনী ন্যায়ে সাতটি রুপেরই অভাব সিদ্ধ হওয়ায় সাধ্যতার বচ্ছেদক নীলত্ব, পীতত্ব প্রভৃতি ৭ টি জাতিই হেতুর অধিকরণে বৃত্তি অভাবের প্রতিযোগিতা বচ্ছেদক রূপে প্রতিপাদিত হয়। অতএব ব্যাপ্তির লক্ষণানুসারে হেতুর অধিকরণে বৃত্তি অভাবে প্রতিযোগিতা বচ্ছেদক ভিন্ন রূপে সাধ্যতা বচ্ছেদক সিদ্ধ না হওয়ায় লক্ষণে অব্যাপ্তি দোষ ঘটে।
উপরোক্ত আশঙ্কার সমাধানে বিশ্বনাথ বলেছেন “ন।তএ পরম্পরয়া……..”। ব্যাখ্যা করে বলা যায় বস্তুতপক্ষে এখানে রূপত্ব ব্যাপ্য, জাতির পরিবর্তে রূপত্ব ব্যাপ্য জাতিত্বকে পরম্পরা সম্বন্ধে সাধ্যতা বচ্ছেদক রূপে স্বীকার করতে হবে। পরম্পরা সম্বন্ধের স্বাশ্রয় সমবায় সম্বন্ধ। স্ব অর্থাৎ রূপত্ব ব্যাপ্য জাতিত্বের আশ্রয় রূপত্ব ব্যাপ্য,পীতত্ব প্রভৃতি জাতি। এরা সমবায় সম্বন্ধে নীল,পীত প্রভৃতি রূপে থাকায় বলা যেতে পারে রূপত্ব ব্যাপ্য জাতিত্ব স্বাশ্রয় সমবায় সম্বন্ধে নীল, পীত প্রভৃতি রূপে থাকায় তা সাধ্যতা বচ্ছেদক রূপে গ্রাহ্য। এখান হেতু পৃথিবীত্ব অধিকরণে রূপত্ব ব্যাপ্য জাতি বিশিষ্ট নীল, পীত প্রভৃতি কোনো না কোনো রূপ থাকায় রূপত্ব ব্যাপ্য জাতিত্ব বিশিষ্টের অভাব কখনোই প্রতিপাদিত হয় না। অতএব পরম্পরা সম্বন্ধে সাধ্যতা বচ্ছেদক হেতুর অধিকরণে বৃত্তি অভাবের অবচ্ছেদক না হওয়ায় এবং এই সাধ্যতা বচ্ছেদকের দ্বারা অবচ্ছিন্ন সাধ্যের সঙ্গে হেতুর সামান্যধিকরন্য সিদ্ধ হওয়ায় ব্যাপ্তির লক্ষণটি সঙ্গতপূর্ণ হয়।
অতএব ব্যাপ্তির দ্বিতীয় লক্ষণটির যথার্থ প্রমাণিত।
Show after the siddhanta Muktavali,the application of the second definition of vyapti?