পাঁচ প্রকার হেত্বাভাসের মধ্যে পঞ্চম হেত্বাভাসের মধ্যে হেত্বাভাসের পরিচয় দেওয়ার হচ্ছে ৭১ নং কারিকায় একে কালাত্বয়পদিষ্ট নামে অভিহিত করা হয়েছে।৭১ নং কারিকায় বলা হয়েছে এটি বাধ নামক হেত্বাভাস। সাধ্যশূন্যো যএ পক্ষস্তবৌ বাধ উদাহৃত।
উৎপত্তি কালীনঘটে গন্ধাদির্যুএ সাধ্যতে।।৭৮।। নং কারিকায় প্রাচীন মতে হেত্বাভাসের নাম কালাত্বয়া পদিষ্ট হেত্বাভাস, নব্য মতে নাম হল বাধ।৭৮ নং কারিকায় এরূপ হেত্বাভাসের লক্ষণে বলা হয়েছে পক্ষে সাধ্যের অভাব থাকলে সেখানে বাধ নামক হেত্বাভাস হয়।একই বক্তব্য অন্য ভাষায়, তর্ক সংগ্রহে বলা হয়েছে- যেখানে সাধ্যের অভাব টি অন্য প্রমানের দ্বারা নিশ্চিত হবে সেখানে বাধ হেত্বাভাস হবে।৭৮ নং কারিকায় বিশ্বনাথ বলেছেন- ‘উৎপত্তি কালিন ঘট গন্ধবান পৃথিবীত্বাৎ’ এখানে উৎপত্তি কালীন ঘট হল পক্ষ এই পক্ষে গন্ধ নামক সাধ্যটি থাকতে পারে না। উৎপত্তির ক্ষণে বা উৎপত্তি কলাবচ্ছেদ ঘটাদি দ্রব্যে গন্ধাদি গুন কগনও থাকতে পারে না।যেহেতু দ্রব্য বা গুনী হল কার্য গুনের সমবায় কারন এবং কারন হিসাবে ঘট দ্রব্যকে অন্ডতত্র কক্ষনের জন্য হলেও অবশ্যই কার্য গন্ধ গুনের পূর্ববর্তী হতে হবে।
ভাষা পরিচ্ছেদ ৭৮ নং কারিকাই শেষ অংশেস্থিত (উল্লেখিত) বাধ হেত্বাভাসের পূর্বোক্ত দৃষ্টান্তের সমাধান সম্ভব। একটি সমস্যার বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে উক্ত কারিকায় মুক্তা বলি টীকায় – সাধ্যশূন্য ইতি। পক্ষ পক্ষতা বচ্ছেদক বিশিষ্ট ইত্যর্থ। তেন ঘটে গন্ধ সত্বেহপি ন ক্ষিতি, এবং মূলাবচ্ছিন্ন বৃক্ষ কপি সংযোগিত্যএপি বোধ্যম। আশঙ্কা হল ঘট এই গুণী ক্ষিতি দ্রব্যে (ঘট)= (পক্ষ) গন্ধগুণ (গন্ধ) =(সাধ্য) তো স্বাভাবিক নিয়মে আছেই তাহলে দৃষ্টান্তে কেন বলা হল উৎপত্তি কালীন ঘটে অর্থাৎ পক্ষে সাধ্য নেই অর্থাৎ গন্ধ নেই তাই বাধ হেত্বাভাস হতে পারে না। সুতরাং ওই দৃষ্টান্তে লক্ষণটি লাগছে না এখানে পক্ষ শব্দের অর্থ পক্ষতা- বচ্ছেদক ধর্মবিশিষ্ট। এখানে ঘট ধর্মে পক্ষতা বচ্ছেদক ধর্মটি হল উৎপত্তি কালীন। ঘটে সাধারণত গন্ধ থাকলেও উৎপত্তি কালাবচ্ছিন্ন ঘটে গন্ধ নেই। পক্ষতা বচ্ছেদক ধর্ম যে উৎপত্তি কাল তৎ বিশিষ্ট যে পৃথিবী পক্ষ তাতে গন্ধ সাধ্য নেই। অতএব উৎপত্তি কালীন ঘটে গন্ধাধি যত্র-সাধ্য তে এই দৃষ্টান্তে বাঁধ নামক হেত্বাভাসের অনুপপত্তি হচ্ছে না।
বাধের অনুপপত্তি সংজ্ঞা নিরসনের জন্য মুক্তাবলীতে পক্ষের অর্থ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। পক্ষ পক্ষতা বচ্ছেদক বিশিষ্ট ইত্যর্থ। পক্ষের অসাধারণ ধর্মে যেমন পক্ষতা বচ্ছেদক রূপে জ্ঞাত সেরূপ পক্ষের বিশেষণ ও পক্ষতা বচ্ছেদক রূপে গ্রাহ্য। কারণ পক্ষের বিশেষণ ও দক্ষতার ব্যবর্তক হয়। সেই জন্যে ঘটে গন্ধ থাকলেও উৎপত্তি কালাবচ্ছিন্ন ঘটে সাধ্য গন্ধের অনুমিতি বাধিত হয়। অর্থাৎ উৎপত্তি কালাবচ্ছিন্ন ঘটের অবচ্ছেদক কেবল ঘটত্ব নয় উৎপত্তিকাল ও অবচ্ছেদক।
কালকে অবিচ্ছেদক বলার সাথে সাধ্যেই দেশের পক্ষে যে অবচ্ছেদকত্বের কথা বলা হয়েছে।৭৮ নং কারিকায় মুক্তা বলী টাকায় এবং মূলাবচ্ছিন্ন বৃক্ষ কপি সংযোগী এক্ষেত্রেও বুঝতে হবে যে বাধ নামক হেত্বাভাসের লক্ষণ সম্বনয়ে হয়েছে, লক্ষণটির অব্যাপ্তি দোষ হচ্ছে না,বাধের উৎপত্তি হচ্ছে। বৃক্ষে কপি বা বানরের সংযোগ থাকলেও বানরটি আছে বৃক্ষের অগ্রদেশে,মূলাদেশে নয়। অতএব বৃক্ষে কপি সংযোগ সত্ত্বেও পক্ষতা বচ্ছেদক মূলদেশে কপি সংযোগের অভাব বশতঃ এতদ বৃক্ষত্ব হেতুটি বাধিত হল অর্থাৎ এখানে বাধ নামক হেত্বাভাস হল। অনুমানটি এই প্রকার মূলাবচ্ছিন্ন বৃক্ষ কপি সংযোগী,এতদ বৃক্ষত্বাৎ।মূলা বচ্ছিন্ন বৃক্ষে (পক্ষে) কপি সংযোগ (সাধ্য) থাকে না। সুতরাং সাধ্যশূন্যো যএ পক্ষস্তসৌ বাধ এই লক্ষণানুসারে এখানে বাধ হেত্বাভাস হল।
বাধ হেত্বাভাসের পরিচিত আরো দৃষ্টান্ত গুলি ‘বহিঃ অনুষ্ণ দ্রব্যত্বৎ’ (বহি পক্ষে অনুষ্ণত্ব সাধ্যের অভাব) ‘হ্রদ বহিমান ধূমাৎ’ (এখানে হ্রদ পক্ষ পক্ষে বহিমত্ব সাধ্যের অভাব) ইত্যাদি।
বাধ হেত্বাভাস কি উদাহরণ সহযোগে আলোচনা করো?