Notice: Function WP_Scripts::add was called incorrectly. The script with the handle "ekit-behance-feed-script-handle" was enqueued with dependencies that are not registered: elementor-editor. Please see Debugging in WordPress for more information. (This message was added in version 6.9.1.) in /home/subhranil/dipankarsirpwp.in/wp-includes/functions.php on line 6131

Question: এই জগতে আমাদের এমন কোন জ্ঞান আছে কি যা কোন বিচারশীল মানুষ সন্দেহ করতে পারে না?’ রাসেল এই সমস্যা কেন এবং কিভাবে উত্থাপন করেন এবং কেমনভাবেই বা তার সমাধান করার চেষ্টা করেন?

Question: এই জগতে আমাদের এমন কোন জ্ঞান আছে কি যা কোন বিচারশীল মানুষ সন্দেহ করতে পারে না?’ রাসেল এই সমস্যা কেন এবং কিভাবে উত্থাপন করেন এবং কেমনভাবেই বা তার সমাধান করার চেষ্টা করেন?

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram

Answer
বার্ট্রান্ড রাসেল (Bertrand Russell) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘The Problems of Philosophy’ (দর্শনের সমস্যা)-এর শুরুতেই যে মৌলিক জ্ঞানতাত্ত্বিক সমস্যাটি উত্থাপন করেছেন, তা হলো: “এই জগতে আমাদের এমন কোনো জ্ঞান আছে কি, যা কোনো বিচারশীল মানুষ সন্দেহ করতে পারে না?”
এটি ছিল মূলত জ্ঞানকে একটি নিরাপদ ভিত্তি (Secure Foundation) দেওয়ার প্রচেষ্টা, যা অভিজ্ঞতাবাদের মূল দুর্বলতা দূর করতে পারে।

  • রাসেলের জ্ঞানতাত্ত্বিক সংশয়বাদ ও তার নিরসন

রাসেল মনে করতেন, জ্ঞানকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর স্থাপন করতে হলে প্রথমেই এমন জ্ঞান খুঁজে বের করতে হবে, যা সংশয়মুক্ত। এর জন্য তিনি প্রথমেই সাধারণ বিশ্বাসগুলির ওপর সন্দেহ আরোপ করেন।
ক. সমস্যা উত্থাপনের কারণ ও পদ্ধতি (Why and How the Problem is Raised)

১. সাধারণ জ্ঞান ও সন্দেহ (Common Knowledge and Doubt):

  • সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করে যে, তারা যা দেখছে, শুনছে বা অনুভব করছে, তা বাহ্যিক জগতে ঠিক সেভাবেই বিদ্যমান। রাসেল প্রথমেই এই সাধারণ জ্ঞানের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
  • কারণ: জ্ঞানতাত্ত্বিক আলোচনার সূত্রপাত করতে হলে, প্রথমেই সমস্ত বিশ্বাসকে সমালোচনামূলক দৃষ্টিতে দেখতে হয়।

    ২. বাহ্যিক বস্তুর পরিবর্তনশীলতা (Variability of Material Objects):
  • রাসেল একটি সাধারণ টেবিলের উদাহরণ দিয়ে দেখান যে, বাহ্যিক বস্তু সম্পর্কে আমাদের ইন্দ্রিয়লব্ধ জ্ঞান কতটা পরিবর্তনশীল। টেবিলের রং, আকার, ঔজ্জ্বল্য—এগুলি বিভিন্ন আলো, দূরত্ব বা দৃষ্টিকোণ থেকে ভিন্ন ভিন্ন প্রতীয়মান হয়।
  • পদ্ধতি: যদি একই বস্তু ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন গুণসম্পন্ন হয়, তবে তার প্রকৃত স্বরূপ (Real Nature) কী, তা আমরা সরাসরি জানতে পারি না।

    ৩. প্রকৃত রূপ বনাম আপাত রূপ (The Real vs. The Apparent):
  • যেহেতু টেবিলটি একই সাথে একাধিক রং বা আকার হতে পারে না, তাই আমরা যা অনুভব করছি, তা টেবিলটির প্রকৃত রূপ (Real Shape/Colour) নয়, বরং টেবিলের একটি আপাত রূপ (Appearance) বা মনের সামনে উপস্থিত একটি বিষয়।
  • সমস্যা: এই আপাত রূপগুলিই হলো ইন্দ্রিয়-উপাত্ত (Sense-Data)। এই উপাত্তগুলি সত্য, কিন্তু তাদের থেকে বাহ্যিক বস্তুর অস্তিত্ব অনুমান করা যায় কি না—এই হলো প্রথম সংশয়।

    ৪. ঘুম ও স্বপ্নের সংশয় (The Doubt from Sleep and Dream):
  • রাসেল দেকার্তের (Descartes) মতো প্রশ্ন তোলেন, কীভাবে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, আমরা এই মুহূর্তে স্বপ্ন দেখছি না? স্বপ্নের অভিজ্ঞতা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা—দুটিই চেতনার সামনে সমানভাবে উপস্থিত হয়।
  • উদ্দেশ্য: এই সন্দেহ উত্থাপনের মাধ্যমে তিনি দেখাতে চান যে, বাহ্যিক জগতের অস্তিত্ব সম্পর্কে আমাদের বিশ্বাস অনিবার্যভাবে ত্রুটিপূর্ণ হতে পারে।

    ৫. জ্ঞানতত্ত্বের নিরাপদ ভিত্তি অন্বেষণ (Searching for a Secure Epistemological Foundation):
  • রাসেলের মূল উদ্দেশ্য ছিল এমন একটি জ্ঞান খুঁজে বের করা, যা সমস্ত সংশয়ের ঊর্ধ্বে এবং যা অন্য সমস্ত জ্ঞানের ভিত্তি হিসাবে কাজ করতে পারে।
  • A.C. Grayling-এর ব্যাখ্যা: গ্রেয়লিং দেখিয়েছেন, রাসেল এবং মূর (G.E. Moore) উভয়েই জ্ঞানতাত্ত্বিক চরমপন্থা (Scepticism) থেকে জ্ঞানকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছিলেন।

    ৬. সংশয়বাদের ভূমিকা (The Role of Scepticism):
  • রাসেল চরম সংশয়বাদী ছিলেন না, তবে তিনি দার্শনিক আলোচনা শুরু করার জন্য একটি পদ্ধতিগত সংশয় (Methodological Doubt) ব্যবহার করেন, যাতে জ্ঞানতত্ত্বের ভিত্তি দৃঢ় হয়।
    খ. সমাধানের চেষ্টা: ইন্দ্রিয়-উপাত্ত ও স্বজ্ঞামূলক জ্ঞান (The Attempted Solution: Sense-Data and Intuitive Knowledge)

    ৭. সমাধানের প্রথম ধাপ: ইন্দ্রিয়-উপাত্তের স্বীকারোক্তি (Acceptance of Sense-Data):
  • যদিও আমরা বাহ্যিক বস্তুর অস্তিত্ব সম্পর্কে সন্দেহ করতে পারি, কিন্তু আমাদের চেতনার সামনে যে ইন্দ্রিয়-উপাত্ত (যেমন: এখন আমি একটি লাল রং দেখছি, একটি শব্দ শুনছি) উপস্থিত হচ্ছে, তার অস্তিত্ব সম্পর্কে আমরা সন্দেহ করতে পারি না।
  • সিদ্ধান্ত: কোনো বিচারশীল মানুষই তার নিজের অভিজ্ঞতার (Inner Experience) বিষয় সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করতে পারে না। এটিই হলো প্রথম সংশয়মুক্ত জ্ঞান।

    ৮. জ্ঞানতত্ত্বের দুটি ভাগ (Two Divisions of Knowledge): me
  • সমাধান হিসেবে রাসেল জ্ঞানকে দুটি ভাগে ভাগ করেন:
  • প্রত্যক্ষ পরিচিতি দ্বারা জ্ঞান (Knowledge by Acquaintance): ইন্দ্রিয়-উপাত্তের সাথে আমাদের সরাসরি পরিচিতি। এটি সংশয়মুক্ত।
  • বর্ণনা দ্বারা জ্ঞান (Knowledge by Description): বাহ্যিক বস্তু সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান, যা ইন্দ্রিয়-উপাত্তের ভিত্তিতে পরোক্ষভাবে অনুমান করা হয়। এটি সংশয়যুক্ত হতে পারে।

    ৯. স্বজ্ঞামূলক জ্ঞান বা স্বতঃসিদ্ধ সত্য (Intuitive Knowledge or Self-Evident Truth):
  • ইন্দ্রিয়-উপাত্ত ছাড়াও রাসেল কিছু স্বজ্ঞামূলক জ্ঞান (Intuitive Knowledge)-এর কথা বলেন, যা যুক্তির উপর নির্ভর করে না।
  • উদাহরণ: গণিতের মৌলিক নীতিগুলি (2+2=4), বা যৌক্তিক সত্য (P > P), বা স্মৃতি থেকে পাওয়া সরল সত্যগুলি। এই জ্ঞানগুলিও সংশয়ের ঊর্ধ্বে।

    ১০. বাহ্যিক জগতের বিশ্বাসকে প্রমাণ করা (Justifying the Belief in an External World):
  • ইন্দ্রিয়-উপাত্ত থেকে বাহ্যিক জগতের অস্তিত্বে বিশ্বাস স্থাপন করাকে রাসেল ‘সর্বোত্তম অনুমান’ (Best Hypothesis) হিসাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন।
  • যুক্তি: একটি স্থায়ী বাহ্যিক বস্তুর অস্তিত্ব অনুমান করা হলে, আমাদের ইন্দ্রিয়-উপাত্তের বৈচিত্র্য ও পারস্পরিক সামঞ্জস্যের (Consistency) একটি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। এটি একটি যৌক্তিক নির্মাণ।

    ১১. মনোবিজ্ঞান বনাম জ্ঞানতত্ত্ব (Psychology vs. Epistemology):
  • রাসেল সচেতনভাবে ইন্দ্রিয়-উপাত্তের আলোচনাকে মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা থেকে আলাদা রাখতে চেয়েছেন। ইন্দ্রিয়-উপাত্তের অস্তিত্ব হলো জ্ঞানতাত্ত্বিক, যেখানে তার উৎপত্তি হলো মনস্তাত্ত্বিক।

    ১২. দর্শনের সমস্যা: জ্ঞানতাত্ত্বিক ভিত্তি (The Problem of Philosophy: Epistemological Foundation):
  • রাসেল দেখিয়ে দেন যে, আমাদের সমস্ত অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান (Empirical Knowledge) শেষ পর্যন্ত ইন্দ্রিয়-উপাত্তের ওপর নির্ভর করে। তাই ইন্দ্রিয়-উপাত্তই হলো সেই নিরাপদ ভিত্তি যা একজন বিচারশীল মানুষ সন্দেহ করতে পারে না।

    ১৩. রাসেল ও মুরের সাদৃশ্য (Similarity with Russell and Moore):
  • জি. ই. মূর (G.E. Moore) যেমন সাধারণ জ্ঞানের সত্যতা রক্ষা করতে চেয়েছিলেন, রাসেলও তেমনই ইন্দ্রিয়-উপাত্তের মতো কিছু অখণ্ডনীয় জ্ঞান খুঁজে বের করার মাধ্যমে জ্ঞানতাত্ত্বিক ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন।

    ১৪. বস্তুগত জগতের যৌক্তিক নির্মাণ (Logical Construction of the Physical World):
  • তাঁর পরবর্তী কাজগুলিতে রাসেল দেখান যে, বাহ্যিক বস্তু আসলে ইন্দ্রিয়-উপাত্ত এবং সম্ভাব্য ইন্দ্রিয়-উপাত্ত বা সেন্সিবিলিয়া (Sensibilia)-এর একটি যৌক্তিক নির্মাণ। অর্থাৎ, তিনি বাহ্যিক জগতের অস্তিত্বকে সরাসরি প্রমাণ না করে, এটিকে ইন্দ্রিয়-উপাত্তের একটি সুসংহত সমষ্টি হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।

    ১৫. রাসেলের সফলতা (Russell’s Success):
  • রাসেল চূড়ান্তভাবে চরম সংশয়বাদকে পরাজিত করতে না পারলেও, তিনি প্রমাণ করতে সক্ষম হন যে, আমাদের অভিজ্ঞতার একটি অংশ (ইন্দ্রিয়-উপাত্ত এবং স্বজ্ঞামূলক সত্য) এমন আছে, যা কোনো বিচারশীল মানুষ সন্দেহের ঊর্ধ্বে রাখতে পারে। এভাবেই তিনি আধুনিক বিশ্লেষণাত্মক দর্শনের জন্য একটি দৃঢ় সূচনা বিন্দু তৈরি করেন।

More Posts

শ্রীশিব-মহিমা স্তোত্রম্​(দীপঙ্কর সামন্ত বিরচিত)​~ Dipankar Samanta

জয় শিব ওঙ্কার, জয় গঙ্গাধর।ত্রিশূলধারী বিভু, জয় বিশ্বেশ্বর।।সৃষ্টি-স্থিতি-লয় যার ভ্রুভঙ্গির খেলা।চরণে প্রণাম জানাই এই সন্ধ্যাবেলা।।​নিরাকার ব্রহ্ম তুমি, জ্যোতির্ময় কায়।পুরাণ কহিছে কথা তোমার মহিমায়।।আদি অন্তহীন তুমি,

শ্রীকালিকা-বিজয়-স্তোত্রম্​(কালিকাপুরাণসার ও দীপঙ্কর-শৈলী আশ্রিত)~ Dipankar Samanta

​নমঃ শিবায়ৈ শিবদাত্রী রূপায়ৈ কালসংস্থিতাম্।কালিকাপুরাণ-প্রোক্তাং বন্দে আদ্যাঞ্চ কালিকা ॥ত্বং সৃষ্টি-স্থিতি-সংহার-কারিকা পরমেশ্বরী।মহাশক্তির্ভবেদ্দেবী জগদ্ধাত্রী সনাতনী ॥নিগুণা ত্বং নিরাকারা সগুণা চ গুণময়ী।যোগিনাং ধ্যানগম্যা চ ভক্তানাং মোক্ষদায়িনী ॥নীলজীমূতসংঙ্কাশা নীলপদ্মদলেক্ষণা।অনন্ত-গগন-ব্যাপ্তা