Notice: Function WP_Scripts::add was called incorrectly. The script with the handle "ekit-behance-feed-script-handle" was enqueued with dependencies that are not registered: elementor-editor. Please see Debugging in WordPress for more information. (This message was added in version 6.9.1.) in /home/subhranil/dipankarsirpwp.in/wp-includes/functions.php on line 6131

দাম্পত্যের ভালোবাসা ও প্রেম 

IMAGE 11

দাম্পত্যের ভালোবাসা ও প্রেম 

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram

‘রা-ধা’ প্রযৌক্তিক শ্রীকৃষ্ণের বাঁশি

‘রক্ষের বোলে তাল মিলিয়ে মানুষ বিয়ের পরে দাম্পত্য কবরে বাস করার ট্রেনিং নিবে, না বিয়ের শুরুতেই বস্তু সমাত পাত্রপাত্রী নির্বাচন করবে? হাঁ এই নির্বাচনটিই হল আমিত্ব প্রেমের প্রথম পদক্ষেপ। যে পদক্ষেপে বেজে ওঠে পরিকল্পিত জেনারেশনে আমিত্ব প্রেমের নান্দনিক সুর। কিন্তু বিয়ের পর দাম্পত্য কবরে বাস করার ট্রেনিং নিলে তো সেই রক্ষণকামিতায় আমিত্ব প্রেমের নান্দনিক বাঁশি বাজে না। যা রক্ষের পালটে পড়া আয়ান জানে না। জানে আমিত্ব শ্রীনন্দ প্রেমিক কৃষ্ণ। সেই মূঢ়তায় আফশোস করে আয়ান যদি সেই আমিত্ব বস্তুর প্রেমিককে বলে, এমন বাঁশি বাজালে মামা আমার রাধাকেই কেড়ে নিলে। সেই কৃষ্ণ বলে, না মামা, বাঁশি বাজাতে জানলে কারো ‘রা-ধা’ই বেহাত হয় না। কারণ তোমার বৌ তো আর ‘রা-ধা’ নয়। সে নিজেই নিজের কৃষ্ণ আবেশিক ‘রা- ধা’ প্রযুক্তিতে নিজেরই আমিত্ব ‘শ্রী’ বর্তনী কায়া। যে ‘শ্রী’ বস্তুর বাস্তবতা তোমার সত্তার্গলী রক্ষণকামিতায় বন্দি করেছ। তাই তা নান্দনিক সুরের দিকে মানে বস্তুর নিয়মে সেই সত্তার্গল ভেঙে পালাতে চাইছে। তোমার সত্তা থেকে সেই ‘শ্রী’ বাস্তবতার মুক্তি দিয়ে দাও। দেখবে তখন তোমার বাঁশিও বাজবে। তোমার তালে তোমার ‘রা-ধা’ও নাচবে। লুকোচুরি করবে না, কোথাও পালাবে না। মূঢ় আয়ান বলে, কত ফু-ই তো দিলাম মামা গো, বাঁশি বাজে না যে। সেই কৃষ্ণ বলে, ঐ যে বললাম রক্ষণকামিতায় ফুঁ দিলে তো আমিত্ব প্রেমের বাঁশি বাজবে না মামা। তোমার সত্তা থেকে তোমারই ‘আমি’ বস্তুকে আমিত্ব বাস্তবতার নিয়মানুগ বাস্তবায়নে মুক্তি দিয়ে ফুঁ দাও, তোমার আমিত্ব প্রেমের বাঁশি ঠিকই বাজবে। অর্থাৎ আর্থসামাজিক মানর-কৃষ্ণলীলার এই বস্তুতত্ত্ব যদি রক্ষ ইন্ধনে নাম যজ্ঞের অনুষ্ঠান হয়ে যায় তাহলে সেই অনুষ্ঠানে সারা জীবন হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ নাম জপলেও তাতে আমিত্ব প্রেমের বাঁশিও বাজে না, মানুষ তথা আর্থসমাজ তাতে মুক্তিও পায় না, তাতে দিন কে দিন রক্ষেরই কেরামতি বাড়ে।’

বাস্তবানুগ দাম্পত্যে মেধা প্রতিভার জন্ম

‘প্রশ্ন ওঠে, যে আয়ান নিজেরই রক্ষণকামিতায় নিজের হাতে বন্দি সে তার সত্তার বাস্তবতাকে মুক্তি দেবে কীভাবে? আর কীভাবেই বা আমিত্ব প্রেমের বাঁশি বাজবে? হাঁ শান্তির থেকে বেশি কিছু চাওয়া পাওয়া যেমন মানুষের অভিব্যক্তিতে নেই, এই প্রশ্নটির থেকে বড় প্রশ্নও তেমনি মানুষের সামনে নেই। কৃষ্ণ যেমন কংসকারা থেকে মানে সমাজ অন্ধত্ব থেকে আর্থসমাজকে মুক্ত করতে চায়, সেই মুক্তি সংগ্রামে তেমনি আয়ান তথা গোটা আর্থসমাজ সামিল হয়ে রক্ষের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করলেই এই সর্বোচ্চ প্রশ্নটির বস্তু জবানিকা শান্তি প্রসন্নতায় মানুষ তথা আর্থসমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়। মানে আমিত্ব প্রেমের বাঁশি বাজে। আয়ান এবার অস্তিত্ব সমীপে বলে, মামার মতো তো আমার সুদর্শন চক্র নেই। হাঁ, সুদর্শন চক্র মানে দূরদৃষ্টি প্রজ্ঞা আয়ান তথা আর্থসমাজের নেই বলেই আর্থসমাজের কর্তব্য হল শান্তি এষণায় কৃষ্ণের জন্ম দেওয়া। স্মর্তব্য যে, শান্তি এষণায় কৃষ্ণের জন্ম দিতে সুদর্শন চক্রের মানে দূরদৃষ্টি প্রজ্ঞার দরকার হয় না। দরকার হয় বস্তু সমীপে জীবন জিজ্ঞাসার। এই জীবন জিজ্ঞাসার বস্তু জবাবই হল মানব কৃষ্ণের জন্ম। পরশ প্রীত দাম্পত্যে সেই জীবন জিজ্ঞাসার বস্তুচর্চা করলে কোনো ছলে বলেই সেই কৃষ্ণের জন্মে রক্ষ বাধা দিতেও পারে না, তাঁকে বন্দি করতেও পারে না। কৃষ্ণ থেকে শ্রীকৃষ্ণ অধিষ্ঠানে উন্নীত হয়ে যে মানবতা রক্ষকেই বন্দি করে। উদ্‌বৃত্ত মূল্য প্রযৌক্তিক আর্থসমাজ রূপায়িত হয় নন্দকাননে। যেখানে বাজতে থাকে বৃন্দাবনী সুর। যে সুরই আমিত্বের সৃষ্টি যজ্ঞ। যে যজ্ঞে রক্ষণকামী দাম্পত্য কবরের আযাব থেকে মুক্তি দিশার বাস্তবানুগ দাম্পত্যে মানুষ ঘরে ঘরে মেধা প্রতিভার জন্ম দেয়।’

বস্তু সম্মত দাম্পত্য নির্বাচন

‘তাহলে আর্থসমাজ মানবতার দ্বান্দ্বিক সুস্থতা বজায় রাখার উপায়?

‘উপায়- কাল পাত্র ক্ষেত্রিক মানবতা বিকাশেয় পরিণয়ের বয়স নির্বাচন, রক্তের গ্রুপগত পাত্র-পাত্রী নির্বাচন, অর্থাৎ কোন গ্রুপের পাত্র আর কোন গ্রুপের পাত্রী পরিণয় বস্তু সমর্থিত, তার উপরই নির্ভর করে আমিত্বের সদন প্রকৃতি প্রকৌশলী আর্থসমাজ মানবিক জৈব দেহমনের হরমোনাল সুস্থতা। যে সুস্থতার সহযোগেই মানস সচেতনার দ্বান্দ্বিক কলি জাগৃতি। এই জাগ্রত সচেতনার প্রজন্মই ক্ষণজন্মা। বস্তুবিজ্ঞানের এই তত্ত্বকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখালে বস্তুবিজ্ঞানও পরিণাম বাচক জবাব দিতে ছাড়ে না। রক্ষণকাম যখন মানুষকে ভাগ্যের দোহাই দিয়ে তার নিজের বোঝার ভারেই কুব্জ করে দেয়। ‘তাহলে আর্থসমাজ-মানবিক পরিপুষ্টি অর্জনের বাস্তবায়নে

প্রাতিষ্ঠানিক উপায় কী? “হাঁ, এর বাস্তবায়নী প্রাতিষ্ঠানিক উপায় ম্যারেজ মেডিক্যাল বোর্ড। যা ক্ষমতা আইনে আইনানুগ হোক না হোক, বস্তুবিজ্ঞানের নিয়মে নিয়মানুগ। ক্ষমতা আইন এই নিয়মের তদারক মাত্র।’ মানব নরনারীর দাম্পত্যকে বস্তু সম্মত করতে দেহমনের যাচাই করা যদি মানুষ ঝামেলা ঝঞ্ঝাট মনে করে তাহলে
এর থেকে আহাম্মকি আর কী হতে পারে? পশু পক্ষীও তো খাওয়ার আগে একটু শুঁকে নেয়। মানুষের কাছে এইটুকুই ঝামেলা ঝঞ্চাট? তাহলে তার দ্বারা কোন সৃষ্টি সম্ভব? আর সৃষ্টি বাঞ্ছা না থাকলে তার মুক্তাঙ্গনের প্রয়োজনটিই বা কী? আর সে মুক্তাঙ্গনের দাবিদারই বা হতে

পারে কোন প্রেক্ষিতে?’

দাম্পত্যের অভিযোজন

‘তাহলে নরত্ব নারীত্বগত বস্তু স্বীকৃতির তত্ত্বটি কী? না, সেই তত্ত্বটি হল দাম্পত্যের অভিযোজন। অভিযোজন তো বটে, অভিযোজনটি হয় কীভাবে?

‘আর তাই তো সে সূচকটি হল দম্পতির শুভদৃষ্টি। যে শুভদৃষ্টি ছাড়া দাম্পত্য অভিযোজন কখনই বাস্তবায়িত হয় না। আর কেবল বিশেষ এক মুহূর্তের প্রতীকী শুভদৃষ্টিতে বিস্তারিত জীবনাঙ্গনী অধ্যায় দেখাও যায় না। তা দেখা আর তা থেকেই তাতে জীবন সামগ্রিকতার পুনঃপুন অভিযোজনে রিডিং নেওয়া প্রয়োজন। যে প্রয়োজনীয় শুভদৃষ্টি বিপরীত সহ রিডিং-এ বোধগম্য, তারা কখন একে অপরের বিপরীত কোন দিক থেকে কে কী চায়। যাতে সেই রিডিং রিডারের মাঝখানে দুর্বাসা ঢুকে পড়ার অপসুযোগী ছিদ্র না পায়। কারণ দাম্পত্যের মাঝখানে নিজেদেরই রক্ষ ইন্ধনী অপসুযোগে দুর্বাসা ঢুকে পড়লেই দাম্পত্যে ঘুণ ধরতে শুরু করে।’

শুভদৃষ্টি কী

তাহলে শুভদৃষ্টিটি আসলে কী? হাঁ, শুভদৃষ্টি হল সেই বীক্ষণ যে বীক্ষণে আপেক্ষিক আর্থসমাজ বস্তুর জীবনাঙ্গনী দাম্পত্যে প্রতিটি

অধ্যায় খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখা যায়। জ্ঞাতব্য যে, সেই সব অধ্যায় আর সেই জীবনাঙ্গনী চেতনার মাঝখানে রক্ষ ইন্ধনী গোপনীয়তার ব্যারিকেড খাড়া হওয়া মানেই শুভদৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া। মানুষ তখন কোনদিক থেকে অধিতব্য সেই জীবনাঙ্গনটি দেখবে? সেই সমাজের দিক থেকে না ব্যক্তির দিক থেকে? ‘এখন প্রশ্ন হল, এইসব কৌরব আর কৌরব সমর্থক ভীষ্মের জন্ম হয় কীভাবে? এদের জন্ম? না না, আগাছার জন্ম বৃত্তান্ত খুঁজতে

খুব বেশি দূর যেতে হয় না। যেখানেই অনাবাদ সেখানেই আছট। আর যেখানে আছট সেখানেই আগাছা। তেমনি যেখানেই আর্থসমাজ মানবতার চর্চাহীনতা সেখানেই ঢুকে যায় নারদ আর দুর্বাসা। আর যেখানেই নারদ আর দুর্বাসা সেখানেই চক্রান্ত। আর যেখানেই তাদের চক্রান্ত সেখানেই এদের জন্ম। কী রকম? হাঁ তাই। আর্থসমাজ মানবতার ভিতটিই হল সত্তা থেকে আমিত্ব নিষ্ক্রান্তিক ব্যক্তি বিকেন্দ্রিকতায় তার শ্রমমূল্য বিনিমেয় ঔচিত্যবোধ, যা সেই সত্তান্দরী বস্তুরই বস্তু নিগম আমিত্বিক প্রেম প্রত্যয়। যা থেকে উত্থান ঘটে মেধা-প্রতিভার। কিন্তু মেধা-প্রতিভা তো রক্ষের তাবেদারি-উমেদারি করে না। তা বস্তুর পক্ষেই মানবতার কাজ করে। রক্ষ তা জানে। আর সে তা জেনে শুনে কি মানবতার পথ কখনো সুগম করে? না না, তা সে করে না। সে কী করে? না, সেই প্রেমের মধ্যেই সে মঙ্গল মুখোশে ঢুকিয়ে দেয় সুজল চোখের নারদ-গুঁজলি দুর্বাসা। যা তাতে ঢুকেই তুলে দেয় বস্তু বিচ্ছিন্নতার’ দেয়াল। চেতনার কর্ষণ না থাকলে প্রেমাভীঙ্গু আমিত্ব তা টেরই পায় না।’

এই যুগের নারদ দুর্বাসা

‘তাহলে এই যুগের নারদ-দুর্বাসা দেখতে কেমন? না, এই যুগে সেই সংক্রামিত রূপটা হল দ্বিমুখ বিশেষণী নারীবাদ। যার একটি মুখ নারদের, অন্য মুখটি দুর্বাসার। যা মঙ্গল মার্কা মুখোশে প্রতিটি দম্পতির অন্দর মহলে উঁকি মারে। আর অধিকার অর্জনের তত্ত্বটিকে আর্থসমাজ সত্তার কিষ্কিন্ধ্যায় লুকিয়ে দিয়ে অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার গাঁজাখোরি বুলি আওড়ায়। কীসের অধিকার? আর সেই অধিকার ছিনিয়ে নিতে চাওয়ার মুখটাই বা কেন দ্বিবিশেষণী? না, সেই অধিকারটা হল এক মুখের বিশেষণে চাওয়া স্বাধীনতার অধিকার আর অন্য মুখের বিশেষণে চাওয়া নরমানবের ঘাড় মটকানো অবলম্বনের অধিকার। ঠিক একটি শিশু যেমন মায়ের কোল থেকে নেমে নিজের পায়ে হাঁটার স্বাধীনতাও চায় আবার সেই হাঁটার স্বাধীনতায় মায়ের হাত ধরে থাকার অবলম্বনটাও তার চায়। চেতনার কর্ষণহীনতায় সেই দ্বিমুখ বিশেষণী নারদ-দুর্বাসার চক্রান্তে টের না পাওয়া দম্পতি সেই গাঁজাতেই দম দিয়ে ঢুকে যায় দাম্পত্য কবরে। পুরাণ প্রদর্শিত সেই কবর থেকেই সংক্রামিত হচ্ছে আজ অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া উন্নয়নে (1) আধুনিক (!) চিড়িয়াখানা বিশেষিত ছাগমুণ্ডী দক্ষের আর্থসমাজ।

‘যে মর্মে জ্ঞাতব্য যে, মানুষের শিব জাগরণী ভক্তির এই দাম্পত্য সাহচর্যে কখনই কোনো নবীন নবীনার অনুপ্রবেশ বাঞ্ছনীয় নয়। কারণ তাতে দুর্বাসা ঢুকে গেলেই হিতে বিপরীত।

‘প্রশ্ন ওঠে, কেন প্রবীণ প্রবীণার সাহচর্যে কি দাম্পত্যে দুর্বাসা ঢুকতে পারে না? হাঁ পারে। কিন্তু জল বেষ্টিত কেন্দ্রে মধুপাত্র রাখলে তার ঘ্রাণ পাওয়া সত্ত্বেও তাতে যেমন পিঁপড়ে লাগতে পারে না, বস্তু-বান্ধব অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ সেই সাহচর্যেও তেমনি কোনো দাম্পত্যে দুর্বাসা ঢুকতে পারে না। কিন্তু দাম্পত্যের মধ্যেই যদি দুর্বাসা সংক্রামিত হয়ে থাকে? হাঁ সেই দুর্বাসাকে প্রবীণ প্রবীণার বস্তু বান্ধব সাহচর্যে বের করে দেওয়া যায়, যদি দম্পতি তাদের শিব জাগরণী ভক্তি প্রিয়তায় বস্তু বান্ধব হয়। এই সাহচর্যের প্রয়োজন কতদিন? না, যতদিন না দম্পতির দাম্পত্যগত শুভদৃষ্টির বাস্তবায়ন হয়।’

শুভদৃষ্টির বাস্তবায়ন

‘কেমন সেই শুভদৃষ্টির বাস্তবায়ন? হাঁ সেই বাস্তবায়ন হল আর্থসমাজ’খাঁচার বন্দিত্বে দৃষ্টি-ঝাঁপি সংক্রামিত সুঁজল চোখটাকে সেই ঝাঁপি অপসারণে দাম্পত্যের বস্তু বীক্ষণী করা। যে বীক্ষণে দাম্পত্য সঙ্গীর নৈর্ব্যক্তিক দৃষ্টিটি আর্থসমাজ দৃষ্টিতে হয় আটপৌরে বিম্ব। যাতে দম্পতির দাম্পত্য সেই সমাজের গতানুবর্তিক ফর্মে বিশেষিত করে নির্বাহ করবে, না তাদের দাম্পত্য বস্তুর অভিধায় সেই সমাজকেই বিশেষিত করবে তা সেই বিম্বিত দৃষ্টিকোণ থেকেই বার্তাবহ। জ্ঞাতব্য যে, সেই শুভদৃষ্টি ভোগের সমাপনীটি হল আমিত্ব প্রেমেরই নিরঞ্জনী পরমভোগ। কেমন? না-

১। শুভদৃষ্টি দান। অর্থাৎ যে কলায় দৃষ্টিদান করলে দাম্পত্য সঙ্গী তার দৃষ্টিভোগে হয় আমিত্ব প্লুত বিসর্গে সৃষ্টিশীল।

২। সাজনাঞ্জনী দান। অর্থাৎ যে কলায় সাজ-সজ্জা করলে দাম্পত্য সঙ্গী তার সাজনাঞ্জন ভোগে হয় সেই বিসর্গে আরো অধিক সৃষ্টিশীল।

৩। আসন দান। অর্থাৎ যে কলায় আসন দান করলে দাম্পত্য সঙ্গী তার আসন ভোগে হয় সেই বিসর্গে আরো অধিক সৃষ্টিশীল।

৪। ভোজন দান। অর্থাৎ যে কলায় ভোজন দান করলে দাম্পত্য সঙ্গী তার ভোজন ভোগে হয় সেই বিসর্গে আরো অধিক সৃষ্টিশীল। –

৫। বচন দান। অর্থাৎ যে কলায় কথামালা সাজালে দাম্পত্য সঙ্গী তার বচন ভোগে হয় সেই বিসর্গে আরো অধিক সৃষ্টিশীল।

৬। পরশ দান। অর্থাৎ যে কলায় ধরাছোঁয়া দিলে দাম্পত্য সঙ্গী তার পরশ ভোগে হয় সেই বিসর্গে আরো অধিক সৃষ্টিশীল।

৭। অর্পণী দান। অর্থাৎ যে কলায় নিঃশর্ত সমর্পণ করলে দাম্পত্য সঙ্গী তার অর্পণ ভোগে হয় সেই বিসর্গে আরো অধিক সৃষ্টিশীল।

৮। নিরঞ্জনী পরম দান। অর্থাৎ যে কলায় সমাপনী অভিষেক করলে দাম্পত্য সঙ্গী তার পরম ভোগে হয় আমিত্ব বস্তু নিগম। যা রূপ রস স্বাদ গন্ধের প্রায়োগিক কৃৎকলা।

‘অর্থাৎ দাম্পত্যের এই অষ্টপ্রধান কৃৎকলা প্রযৌক্তিক পুষ্পচুমি পরশের আলোক বর্তিকা রূপ বস্তু প্রীত্যর্থী আমিত্ব প্রত্যয়ই হল তার শ্রম মূল্যায়নী আর্থসমাজ পূর্ণাঙ্গিক সেই বস্তুর লক্ষ্য লব্ধিতে কর্তৃত্ব বাচক বিশ্বাস, মানে শক্তি অর্জনী প্রজ্ঞায় প্রজাপতিরূপ আমিত্ব ভোক্তার ভোগ বর্তনী।

পরিবার সমিতির প্রয়োজনীয়তা ও তার প্রযুক্তি ‘তাহলে কী সেই পরিবার সমিতির প্রযুক্তি?

হাঁ এর প্রথম পদক্ষেপই হল দাম্পত্যের পরশ বাচক শ্রম-স্পৃহার চর্চা। পরশানন্দী বিসর্গে যা মনন কর্ষণী। যে কর্ষণে আর্থসামাজিক মোট শ্রমমূল্যের কত অংশ কোন খাতে ব্যয় হয় তার হিসেব নিকেশ করার অভিব্যক্তি আর্থসামাজিক স্বীকৃতি পায়। যে স্বীকৃতিতে সেই মূল্যে ভাগ বসানো পরগাছারাও শনাক্ত হয়, আর যে শনাক্তকরণে দুর্বাসাও মুখ লুকোতে বাধ্য হয়, যাতে রক্ষ কথিত ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যের বোলটাও তার মুখ থেকে ছুটে যায়। কারণ সেই প্রযুক্তিতেই সবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়া যায়, বাস্তবানুগ ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্য কী আর কেমন?

‘তার মানে? হাঁ, তার মানে হল আর্থসমাজের কোনো দিক থেকেই কোনো সুঁজল চোখকে দাম্পত্যের অন্দরে অনুপ্রবেশ করতে না দিয়ে দাম্পত্যই যেন আর্থসমাজের অন্দরে ঢুকে ন্যায় প্রযৌক্তিক অংশ নিতে পারে। দাম্পত্যের এই পরশ প্রযুক্তি প্রয়োগ করতে না পারলে রক্ষ ইন্ধনী দাম্পত্য কবরে ঢুকে মানুষ বস্তু বিচ্ছিন্নই হয়। যে বিচ্ছিন্নতা ঝরানো ফুলঝুরি শান্তির প্রহসনে হয়ে যায় রক্ষেরই কিস্তিমাত। যাতে ধৃতরাষ্ট্রেরই জন্ম হয়। অর্থাৎ দাম্পত্য কবর থেকে জন্ম হয় ধৃতরাষ্ট্রের আর আর্থসমাজ সংকট বিশেষিত পাণ্ডুরতায় আক্রান্ত হলেও দাম্পত্যের পরশ প্রিয়তায় জন্ম হয় পাণ্ডবী মেধা প্রতিভার।’

‘তো তার জন্য পরিবার সমিতির কী দরকার? হাঁ, সেই পরশ প্রযৌক্তিক পরিবার সমিতিই আর্থসামাজিক ন্যায় প্রযুক্তির চাবিকাঠি। ‘তো রক্ষ তার কথিত নারী স্বাধীনতার বোল ধরিয়ে নরনারীর দাম্পত্য যেভাবে বিষিয়ে দিচ্ছে তাতে কি আর পরশের আশা করা যায়? হাঁ রক্ষ ইন্ধনী সেই মনের আবর্জনা রূপ দুর্বাসাকে ‘পরিবার সমিতি’র প্রযুক্তিতে দাম্পত্য থেকে ঝেটিয়ে বার করে দিতে পারলেই তার পরশ অনুভূতি আমিত্বের চেতনা মর্মে স্পর্শ করে। যখন তারই ইন্ধনে তারই কথিত মেধা প্রতিভার জন্য মানুষকে তারই চিড়িয়াখানার জীব হতে হয় না। মেধা প্রতিভা পরশপ্রীত দাম্পত্যের ক্ষণজন্মাই হয়। স্মর্তব্য যে, রক্ষ ইন্ধনে নরনারীর দাম্পত্যে একবার দুর্বাসা ঢুকে পড়লে সারাজীবন হাতড়েও সেই ক্ষণের হদিশ পাওয়া দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। যাতে কৌরবী সংখ্যা গরিষ্ঠতার আগুনখোরী ছক্কাপাঞ্জায় আর্থসামাজিক ক্ষমতা ছিনতায়ের পাণ্ডব নিধনী ইন্ধন দেওয়া জ্ঞানপাপ পাণ্ডিত্য ভীষ্মের জন্ম হতে পারে কিন্তু পাণ্ডবের জন্ম হয় না। তাহলে কেমন সেই জন্মের ক্ষণটি? না তা হল, মহাপ্রকৃতির বৃন্দাবনী ছন্দে মানুষেরই সদন প্রকৃতির দেহমননশীল দাম্পত্য, যখন তা বিপরীত পরশপ্রীত ট্র্যাঙ্কুয়িলিটিতে আমিত্ব বিসর্গিক স্বাচ্ছন্দ্যময়। পাণ্ডুরতা সত্ত্বেও যে স্বাচ্ছন্দ্যময় দাম্পত্যের ক্ষণমাধুর্যেই জন্ম হয় পাণ্ডবের। যারা আর্থসমাজের বিন্যাস করে শান্তিপ্রিয় আমিত্বের পরশপ্রীত সুষমায়, যা স্বর্গ।’

More Posts

শ্রীশিব-মহিমা স্তোত্রম্​(দীপঙ্কর সামন্ত বিরচিত)​~ Dipankar Samanta

জয় শিব ওঙ্কার, জয় গঙ্গাধর।ত্রিশূলধারী বিভু, জয় বিশ্বেশ্বর।।সৃষ্টি-স্থিতি-লয় যার ভ্রুভঙ্গির খেলা।চরণে প্রণাম জানাই এই সন্ধ্যাবেলা।।​নিরাকার ব্রহ্ম তুমি, জ্যোতির্ময় কায়।পুরাণ কহিছে কথা তোমার মহিমায়।।আদি অন্তহীন তুমি,

শ্রীকালিকা-বিজয়-স্তোত্রম্​(কালিকাপুরাণসার ও দীপঙ্কর-শৈলী আশ্রিত)~ Dipankar Samanta

​নমঃ শিবায়ৈ শিবদাত্রী রূপায়ৈ কালসংস্থিতাম্।কালিকাপুরাণ-প্রোক্তাং বন্দে আদ্যাঞ্চ কালিকা ॥ত্বং সৃষ্টি-স্থিতি-সংহার-কারিকা পরমেশ্বরী।মহাশক্তির্ভবেদ্দেবী জগদ্ধাত্রী সনাতনী ॥নিগুণা ত্বং নিরাকারা সগুণা চ গুণময়ী।যোগিনাং ধ্যানগম্যা চ ভক্তানাং মোক্ষদায়িনী ॥নীলজীমূতসংঙ্কাশা নীলপদ্মদলেক্ষণা।অনন্ত-গগন-ব্যাপ্তা