Notice: Function WP_Scripts::add was called incorrectly. The script with the handle "ekit-behance-feed-script-handle" was enqueued with dependencies that are not registered: elementor-editor. Please see Debugging in WordPress for more information. (This message was added in version 6.9.1.) in /home/subhranil/dipankarsirpwp.in/wp-includes/functions.php on line 6131

Question : ন্যায় বৈশেষিক সম্মত অন্যথাখ্যাতি বাদ ব্যাখ্যা কর?

Question : ন্যায় বৈশেষিক সম্মত অন্যথাখ্যাতি বাদ ব্যাখ্যা কর?

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram


(ক) ন্যায় বৈশেষিকগন অন্যথাখ্যাতিবাদী ‘ এক বস্তুর অন্যরূপে প্রতিতিকে’ অন্যথাখ্যাতি বলে খ্যাতি শব্দের অর্থ প্রতীতি,জ্ঞান বা কথন রজ্জুতে যখন সপর্শ্রম হয়,তখন রজ্জুর সহিত দোষ যুক্ত চক্ষুর সন্নিকর্ষ হলে , নেত্রগত সেই দোষের প্রভাব বসত বল্মিকাদিতে স্থিত যে সত্য সর্প ,তারই পুরোদেশে প্রতীতি হয় এই দূরবর্তী স্থানে অবস্থিত সর্পের যে সম্মুখে খ্যাতি অর্থাৎ দূরবর্তী বস্তুর যে নিকট বর্তীত্বরুপ অন্য ধর্মযোগে প্রতীতি , তাই অন্যথা খ্যাতি এই মতে ধর্ম ও ধর্মের অংশে সার্পের জ্ঞান যথার্থ কিন্তু দেশ অংশে তার জ্ঞানভ্রম এটা প্রাচীন নৈয়ায়িকগনের মত নব্য নৈয়ায়িকগন এটা স্বীকার করেন না তাদের মতে দোষবশত যদি দূরবর্তী সত্য সর্পের সম্মুখে প্রতীতি হয় তবে যে স্থলে সেই সত্য সর্প আছে সেই বাল্মিকাদি স্থানের ও প্রত্যক্ষ হওয়া উচিত অন্ধত্ব দোষ যুক্তের ও ঘটাদির প্রত্যক্ষ হওয়া উচিত কিন্তু তা হয় না সুতরাং এই মত অসঙ্গত।


(খ) নব্য নৈয়ায়িক গনের মতে রজ্জুতেযখন সর্বভ্রম হয় তখন প্রথমত “ইদম”(ইহা) এই রূপে রজ্জুর সামান্য জ্ঞান মাত্র হয় কিন্তু ইন্দ্রের দোষ বসত রজ্জুত্ব বিশিষ্ট রজ্জুরজ্ঞান হয় না’ইদম’ এইরূপে রজ্জুর সামান্য জ্ঞান হওয়ার পর বিশেষ জ্ঞানের আকাঙ্ক্ষা জন্মে অতঃপর রজ্জুর সহিত সর্পের সাদৃশ্য থাকায় সেই সাদৃশ্য জ্ঞান উদ্বোধক হয়ে বল্মীকাদি স্থালে পূর্ব্বাণুভূত যে সর্প সেই সর্প সংস্কারের উদ্বোধ করে, অনন্ডর পূর্ব দৃষ্ট সেই সত্য সর্পের স্মৃতি হয় এই স্মৃতি জ্ঞান সন্নিকর্ষ হয়ে বল্মীকাদিস্থিত সত্য সর্পের প্রত্যক্ষ জ্ঞান উৎপাদন করে এই প্রকার যে সন্নিকর্ষ তাকে নেই বৈশেষিক মতে জ্ঞানলক্ষ্যনা নামক অলৌকিক সন্নিকর্ষ বলা হয়। এই অলৌকিক সুন্নিকর্ষ বলে দৃষ্ট ঐ সত্য সর্পের ধর্ম যে সর্পত্ব পূর্বোক্ত বিশেষ জ্ঞান বিষয়ক আকাঙ্ক্ষাকে চরিতার্থ করার জন্য’ঈদং’ পদ রজ্জুতে সমবায় সম্বন্ধে’প্রকার’বা বিশেষণরূপে তার ভান হয় এবং এইটি সর্প এই প্রকার চক্ষুস প্রত্যক্ষ হয় l


(গ) কোন কোন নৈয়ায়িক বলেন রজ্জুর সহিত চক্ষুর সন্নিকর্ষ হলে সর্ব ভ্রমে বিলম্ব হয় না বলে চক্ষুর সহিত রজ্জুর সম্বন্ধ এবং সর্বভ্রমের অন্তরালে উক্ত প্রকার স্মৃতি এবং জ্ঞান লক্ষ্যনা সন্নিকর্ষের ব্যবধান স্বীকার করার অবশ্যকতা থাকে না কিন্তু যে বস্তুর সংস্কার উদ্বুদ্ধ হয় সেই বস্তুর ধর্মই পুরোবর্তী বস্তুতে প্রতীত হয় রজ্জুর সহিত সর্পের সাদৃশ্য থাকায় ঐ সাদৃশ্য জ্ঞানটির দ্বারা পূর্ব দৃষ্ট যে সর্প তদ্বিষয়ক সৎস্কারের উদ্বোধ হলেই ইদং রূপে প্রতিভীত রজ্জুতে সর্পত্বের প্রতীতি হয় এবং”এটা সর্প”এই প্রকার জ্ঞান হয় l

(ঘ)আবার অন্যথা খ্যাতির এমন কতগুলি স্থল আছে,যেখানে জ্ঞান লক্ষ্যনা সন্নিকর্ষ ইত্যাদি উপরোক্ত হেতুগুলি অন্বিত হয় না যেখানে অধিষ্ঠান ও আরোপ্য উভয়ের সহিত চক্ষুর সন্নিকর্ষ থাকা সত্ত্বেও একটিকে অপর বলে ভ্রম হয়। এটাই অন্যথা খ্যাতির স্থল যথা- সম্মুখবর্তী রঙ্গ ও রজত এই উভয় বস্তুর শহীদ চক্ষুর সন্নিকর্ষ থাকলে রঙ্গ কে রজত রূপে এবং রজতকে রঙ্গ রূপে ভ্রম হয় ” বিশেষাজ্ঞান সহ কৃত সাদৃশ্য জ্ঞানই” এতাদৃশ্য অন্যথা খ্যাতির কারণ,যেহেতু রঙ্গ ও রজতের মধ্যে যে বিশেষ অর্থাৎ পার্থক্য তদ্বিষয়ক জ্ঞান না থাকায় এবং রঙ্গ ও রজতের মধ্যে চাকচিক্য রূপ সাদৃশ্য জ্ঞান থাকায় এই ভ্রম হয়।
এই প্রকার অবান্তর মতভেদ থাকলেও”অন্য বস্তুর অন্য রূপে প্রতীতিরূপ” যে অন্যথা খ্যাতি এই বিষয়ে সকল নৈয়ায়িকই একমত প্রস্তাবিত স্থলে” অন্যত্র অন্য ধর্ম্মা ধ্যাসঃ রূপ ভ্রমে লক্ষণ টি এইরূপে সম্বন্ধিত হয়—- “অন্যত্র”– রজ্জুতে,”অন্য ধর্ম্মাধ্যাসঃ”দেশান্তরস্থ সর্পের ধর্ম যে সর্বত্ব,তার অধ্যাস হয় ইত্যাদিএই অন্যথা খ্যাতিবাদ কুমারীল ভট্ট,জৈন সম্প্রদায়,নিম্বার্কাচার্য ও বল্লভাচার্যের মতেও কোন না কোন প্রকারে স্বীকৃত হয়কেউ কেউ বলেন বাহ্যাস্তিত্ববাদী সৌত্রান্তিক ও বৈভাসিক বৌদ্ধনন অন্যথা খ্যাতিবাদী
অনির্ব্বচনীয় খ্যাতিবাদই সিদ্ধান্ত সম্মত অন্য প্রকার খ্যাতিবাদ গুলি সিদ্ধান্তীর খন্ডনীয় পক্ষ তত্তৎ খ্যাতিবাদ খন্ডনের জন্য সিদ্ধান্ত পক্ষ যে যুক্তি প্রদর্শন করেন তা অতীব জটিল ও বহু বিস্মৃত সুতরাং প্রস্তাবিত স্থলে আলোচ্য নয় তথাপি জিজ্ঞাসা সুর তৃপ্তির জন্য অতি সংক্ষেপে তার দিগদর্শন মাত্র করা হচ্ছে প্রত্যেকটি খ্যাতিবাদ বর্ণনার শেষে তা প্রদর্শিত হবে, প্রস্তাবিত স্থলে সিদ্ধান্তী বলেন-অন্যথাখ্যাতি বাদ সঙ্গত নয় যেহেতু দূরবর্তী সর্প বা তার ধর্ম সর্পত্বের কদাপি সন্নিকৃষ্ট রজ্জুতে প্রতীতি হতে পারেনা কারণ দূরবর্তী তাদের সহিত চক্ষুর সন্নিকর্ষ থাকেনা আর জ্ঞানলক্ষ্যনা রূপ অলৌকিক সন্নিকর্ষ দ্বারা ও উক্ত দূরবর্তী সর্প বা সর্পত্তের প্রত্যক্ষ জ্ঞান স্বীকার করা যায় না কারণ তাহলে উক্ত প্রকার অলৌকিক সন্নিকর্ষের দ্বারাই দূরবর্তী পর্ব্বতস্থ বহ্নির প্রত্যক্ষ জ্ঞান হবার বাধা থাকবে না আর তা স্বীকার করলে অনুমান প্রমাণেরই উচ্ছেদ হয়ে যাবে সুতরাং জ্ঞানলক্ষ্য না সন্নিকর্ষ স্বীকার্য্য নয় l

আর ইন্দ্রিয় সন্নিকর্ষ ব্যতিরেকে কেবল সংস্কারের দ্বারা সম্মুখবর্তী রজ্জুতে তা দৃশ্য সর্প বা সর্পত্তের প্রত্যক্ষ জ্ঞান স্বীকার করলে স্মৃতি জ্ঞান কেউ প্রত্যক্ষ জ্ঞান বলতে হবে। কারণ”সংস্কার মাত্র জনং জ্ঞানং স্মৃতি” ——কেবল সংস্কার হতে যে জ্ঞান উৎপন্ন হয় তাকে স্মৃতি বলে। সুতরাং কথিত রীতিতে রজ্জু, প্রভৃতিতে সর্প প্রভৃতির প্রতীতি সম্ভব হয় না বলে এই অন্যথা খ্যাতিবাদ যুক্তি সহ নয়। যেখানে আরোপ্য ও অধিষ্ঠান উভয়ই উপরোক্ত রঙ্গ ও রজতের ন্যায় অথবা স্ফটীক ও জপকুসুমের ন্যায় প্রত্যক্ষ তা দৃশ্যস্থলে অন্যথা খ্যাতিবাদ বেদান্তবাদী কর্তৃক ও স্বীকৃত হয় অন্যত্র অনিবর্বচনীয় খ্যাতিবাদই স্বীকার্য l

সমালোচনা:—
অন্যথা খ্যাতিবাদ কোন কোন ভারতীয় দার্শনিকগণ কর্তৃক সমালোচিত হয়েছে কোন কোন বিশিষ্ট সমালোচকের মতে প্রাচীন ন্যায় সম্মত যে অন্যথা খ্যাতিবাদ তা অনেকটা যুক্তিসম্মত বলে মনে হলেও নব্য নইয়ায়িকদের মত ঠিক গ্রহণযোগ্য নয় কারণ ভ্রম জ্ঞানের মূলে থাকে বিষয়ীগত দিক যে শক্তিতে এক ব্যক্তি তার ইন্দ্রিয়ের দোষ বসত রজত বলে মনে করছেন সেই শক্তি আবার অন্য ব্যক্তির কাছে রজত বলে হয় না যা বিষয়ীগতা তা সকলের কাছে সমানভাবে দৃষ্ট হয়। যা বিষয় গত তা ব্যক্তির ব্যক্তিত্বে ভিন্ন হয় ভ্রম জ্ঞান যদি বিষয়গত হয় তাহলে প্রাচীনদের ব্যাখ্যা অনেকটা গ্রহণযোগ্য প্রাচীন মতে সম্মুখৰ্তী শক্তির সাথে দোষ যুক্ত ইন্দ্রিয়ের সম্বন্ধ হলে তার চাকচিক্যাদি সাদৃশ্য বসত এরূপ চাকচিক্যাদি আছে এমন যে বস্তু তার ধর্মে আরোপ হয়। এই মিথ্যা আরোপই হল অন্যথা খ্যাতি ভ্রম জ্ঞান যেহেতু মানবতা এই দিকের বিচারে প্রাচীনদের মতা যুক্তি কমত কেননা তা প্রয়োজন ইন্দ্রিয় কেননা তা বিষয়ীগত দিকে প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেছে l

কিন্তু নব্য নইয়ায়িকগণ যেভাবে অন্যথা খ্যাতিবাদ ব্যাখ্যা করেন তা যুক্তি শাশ্বত নয়, ভ্রম জ্ঞানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয় বিষয়ীগত দিক ভ্রম জ্ঞান হল একবস্তুতে অন্য বস্তুর ধর্মের আরোপ সেক্ষেত্রে যে ধর্মটির আরোপ হবে সেই ধর্মটি মানবজগৎ বা আত্মা থেকে আসবে বাইরের জগতে তার কোন সত্ত্বা নেই এটা মেনে নেয়া যায় না নব্য নইয়ারিকগন বলেন শক্তিতে যখন আমরা “ইদং ” রজতম বলে জানি তখন নিকটবর্তী যে শক্তি তার যেমন স্বত্বার স্বীকার করতে হবে তেমনি দূরবর্তী তীর যে রজত তারও বস্তুগত সত্ত্বাস্বীকার করতে হবে ইদং হিসাবে সামান্যভাবে শক্তির লৌকিক প্রত্যক্ষ তার দূরবর্তী রজতের অলৌকিক প্রত্যক্ষ—ভ্রম জ্ঞান স্থলে এই দুই বস্তু সৎ বলে স্বীকার করলে ভ্রম জ্ঞানের ব্যাখ্যা অসম্ভব হয়ে যাবে l

ন্যায় বৈশেষিক সম্মত অন্যথাখ্যাতি বাদ ব্যাখ্যা কর?

More Posts

শ্রীশিব-মহিমা স্তোত্রম্​(দীপঙ্কর সামন্ত বিরচিত)​~ Dipankar Samanta

জয় শিব ওঙ্কার, জয় গঙ্গাধর।ত্রিশূলধারী বিভু, জয় বিশ্বেশ্বর।।সৃষ্টি-স্থিতি-লয় যার ভ্রুভঙ্গির খেলা।চরণে প্রণাম জানাই এই সন্ধ্যাবেলা।।​নিরাকার ব্রহ্ম তুমি, জ্যোতির্ময় কায়।পুরাণ কহিছে কথা তোমার মহিমায়।।আদি অন্তহীন তুমি,

শ্রীকালিকা-বিজয়-স্তোত্রম্​(কালিকাপুরাণসার ও দীপঙ্কর-শৈলী আশ্রিত)~ Dipankar Samanta

​নমঃ শিবায়ৈ শিবদাত্রী রূপায়ৈ কালসংস্থিতাম্।কালিকাপুরাণ-প্রোক্তাং বন্দে আদ্যাঞ্চ কালিকা ॥ত্বং সৃষ্টি-স্থিতি-সংহার-কারিকা পরমেশ্বরী।মহাশক্তির্ভবেদ্দেবী জগদ্ধাত্রী সনাতনী ॥নিগুণা ত্বং নিরাকারা সগুণা চ গুণময়ী।যোগিনাং ধ্যানগম্যা চ ভক্তানাং মোক্ষদায়িনী ॥নীলজীমূতসংঙ্কাশা নীলপদ্মদলেক্ষণা।অনন্ত-গগন-ব্যাপ্তা